বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় যমুনা নদীর তীরবর্তী কুড়িপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে নেই কোনো স্থায়ী সেতু। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডোবা পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে প্রায় ৮০ জন শিক্ষার্থীকে। বিশেষ করে বর্ষা ও বন্যার মৌসুমে চরম দুর্ভোগে পড়ছে কোমলমতি শিশুরা। নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে তাদের নিয়মিত পাঠদান ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যমুনাতীরের দুর্গম জনপদে অবস্থিত বিদ্যালয়টিতে পৌঁছানোর একমাত্র পথে রয়েছে একটি ডোবা। শুষ্ক মৌসুমে অভিভাবক ও শিক্ষকদের সহায়তায় কোনো রকমে ডোবাটি পার হতে পারলেও বর্ষায় তা পানিতে পূর্ণ হয়ে যায়। এ সময় ডোবা পার হতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ও পোশাক ভিজে নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি পা পিছলে পানিতে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
দুর্ঘটনার ভয়ে অনেক অভিভাবক সন্তানদের একা বিদ্যালয়ে পাঠাতে সাহস পাচ্ছেন না। এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে প্রাক-প্রাথমিক, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিশুরা। অন্যদিকে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অনেকে নৌকা কিংবা ভেলার সাহায্যে যাতায়াত করছে।
তিনি আরও জানান, চলতি বছরে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে বিদ্যালয়ের দুই পাশের মাটি ভেঙে গেছে। এতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও ভবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিদ্যালয়ের চারপাশ উন্মুক্ত থাকায় শিক্ষার্থী ও ভবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার জানায়, “বন্যার সময় আমাদের অনেক কষ্ট হয়। আমরা একটা ব্রিজ চাই। বই-খাতা ভিজে যায়, আমরা স্কুলে যেতে পারি না।”
কাজলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জু মিয়া বলেন, “বর্ষা ও বন্যার সময় বিদ্যালয়ে পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন স্কুলে আসতে পারে না। সম্প্রতি এক দিনের ভারী বৃষ্টিতে বিদ্যালয়ের দুই পাশে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এমন বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পুরো বিদ্যালয় ভবন বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, “প্রতিদিনই আতঙ্কে থাকি, কখন আমার সন্তান পানিতে পড়ে যায়। এখানে একটি টেকসই সেতু নির্মাণ করে দিলে সন্তানদের স্কুলে যাতায়াতের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ শেষ হতো।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মো. মাহাতাবুর রহমান বলেন, “প্রধান শিক্ষক আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। আমি তাঁর কাছে ছবি ও লিখিত আবেদন চেয়েছি। আবেদন পাওয়ার পর তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পাঠানো হবে। আশা করছি, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান অব্যাহত রাখতে ডোবার ওপর দ্রুত একটি টেকসই সেতু অথবা উপযুক্ত কালভার্ট নির্মাণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের দুই পাশের ভাঙন রোধ ও ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।