শাহজাহানপুর (বগুড়া):
বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার গোহাইল ইউনিয়নের আতাইল বাজার এলাকায় অবস্থিত একটি বিউটি পার্লারকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত টাকা দাবি, হুমকি এবং ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শাহজাহানপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. জহুরুল ইসলাম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ দিন আগে জহুরুল ইসলামের দুই ছোট ভাইয়ের স্ত্রী আতাইল বাজারের একটি বিউটি পার্লারে সেবা নিতে যান। সেবা গ্রহণের পর পার্লারের মালিক মোছা. সনিয়া খাতুন নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অতিরিক্ত অর্থ দাবির কারণ জানতে চাইলে বিভিন্ন অজুহাত দেখানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
জহুরুল ইসলাম দাবি করেন, নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ করার পরও অতিরিক্ত টাকা দাবির বিষয়টি অব্যাহত থাকে। অতিরিক্ত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে পার্লার মালিক ও তার সহযোগীরা মোবাইল ফোনে এবং সরাসরি বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে শুরু করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১০ জুন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে অভিযুক্ত সনিয়া খাতুন অভিযোগকারীর বাড়ির সামনে এসে প্রধান ফটক ও জানালায় আঘাত করেন এবং পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ সময় প্রতিবাদ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া থানায় অভিযোগ দায়েরের জেরে পূর্ব শত্রুতার ধারাবাহিকতায় ১১ জুন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অভিযুক্তরা আবারও জহুরুল ইসলামের বাড়ির সামনে এসে গালিগালাজ ও ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে রান্নাঘর, বসতবাড়ির ইটের দেয়াল, গ্যাসের চুলাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অভিযোগকারীর দাবি, এতে প্রায় ১৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
একই দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জহুরুল ইসলামের পরিচালিত মাছের হ্যাচারির সামনে গিয়ে গেটে লাথি মারা, গালিগালাজ করা এবং ব্যবসা ধ্বংসের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী রহিমা বেগম বলেন, “সামান্য অর্থের বিষয়কে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে কিছু বলতে চান না।”
তবে অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলো সম্পর্কে অভিযুক্ত সনিয়া খাতুনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে শাহজাহানপুর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা শামসুজ্জোহা বলেন, “লিখিত অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরির বিষয়গুলো তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে অভিযোগের সব দিক যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।