শিবগঞ্জ বগুড়াঃ
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বুড়িগঞ্জ ইউনিয়নের পঞ্চদাস গ্রামে মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় এক দম্পতির ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় স্বামী-স্ত্রীসহ পরিবারের আরও দুই সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত স্বামী মো. সেলিম উদ্দিন শিবগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বুড়িগঞ্জ ইউনিয়নের পঞ্চদাস গ্রামের বাসিন্দা মো. সেলিম উদ্দিনের দাবি, তাঁর প্রতিবেশী আনিছুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। এসবের প্রতিবাদ করায় তিনি ও তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের হুমকির মুখে ছিলেন।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত রবিবার (১২ জুলাই) বিকেল প্রায় ৩টার দিকে অভিযুক্ত আনিছুর রহমান ও তাঁর সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেলিমের বাড়িতে প্রবেশ করে গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে লোহার রড দিয়ে সেলিমের মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে বাঁশের লাঠি দিয়েও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁর স্ত্রী লাবনী খাতুনের ওপরও হামলা চালানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীদের মধ্যে থাকা এক নারী লাবনীর চোখে মরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন।
এ সময় আহত দম্পতিকে উদ্ধার করতে এগিয়ে গেলে সেলিমের বৃদ্ধ বাবা-মাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শে শিবগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগে আনিছুর ফকির, ফজলু ফকির, আকলিমা, তারা বানু ও স্বপ্না খাতুনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। তাঁদের বাড়িতে গিয়ে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। ফলে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিনুজ্জামান শাহিন জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।