বগুড়া আদমদীঘি :
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার চাঁপাপুর ইউনিয়নের হাউসপুর গ্রামে পুকুরে মাছ ধরার জন্য পানি সেচ দেওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মিজানুর রহমান (৪০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ সময় তাঁকে উদ্ধার করতে গিয়ে আরও সাতজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হয়েছেন।
শনিবার (১ আগস্ট) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মিজানুর রহমান উপজেলার কুন্দগ্রাম ইউনিয়নের হরিণমারা গ্রামের লোকমান আলী মণ্ডলের ছেলে। তিনি দুপচাঁচিয়া পৌরসভায় কার্যসহকারী পদে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার ছুটিতে শ্বশুর রিয়াজুল ইসলামের বাড়িতে বেড়াতে যান মিজানুর রহমান। শনিবার সকালে বাড়ির পাশের ‘কৌটার পুকুর’-এ মাছ ধরার উদ্দেশ্যে পানি সেচ দেওয়ার সময় তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তাঁকে উদ্ধার করতে এগিয়ে এলে স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে আরও সাতজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দার দাবি, মিজানুর রহমান বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর বাড়ির প্রধান বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তাঁর ভাষ্য, পুকুরে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক সংযোগটি মূল বিদ্যুতের খুঁটি থেকে অবৈধভাবে নেওয়া হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান মিয়া জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট অবস্থায় মিজানুর রহমানকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সকাল ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় এখনো নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রশাসন ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করছে। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।