নিজস্ব প্রতিবেদক, গাবতলী (বগুড়া) | ৫ মে, ২০২৬

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার গোলাবাড়ি বন্দরে পরিবহন খাতে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে গতকাল (রোববার) চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন সাধারণ শ্রমিক ও চালকরা। কিন্তু সেই প্রতিবাদের ২৪ ঘণ্টা পার হতে না হতেই দেখা গেল উল্টো চিত্র। অন্যায়ের বিরুদ্ধে যারা কণ্ঠ তুলেছিলেন, ‘শৃঙ্খলার অভাব’ ও ‘সংগঠন বিরোধী কাজে লিপ্ত’ থাকার অজুহাতে তাদেরকেই সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

গোলাবাড়ি বন্দরের সাধারণ চালকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক ইউনিয়নের নাম ভাঙিয়ে একটি প্রভাবশালী মহল নিয়মিত চাঁদাবাজি এবং অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল। এই শোষণের বিরুদ্ধে গত ৪ মে সাধারণ শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ সভা ও কর্মবিরতি পালন করেন। তাদের দাবি ছিল—শ্রমিকদের ঘাম ঝরানো টাকা আত্মসাৎকারীদের বিচার এবং অবৈধ চাঁদা আদায় বন্ধ করা।

২৪ ঘণ্টার নাটকীয় পরিবর্তন

প্রতিবাদের পর স্থানীয়রা আশা করেছিলেন, ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষ হয়তো অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু গতকালের প্রতিবাদীরা আজ সকালে এসে জানতে পারেন, তাদেরই ইউনিয়নের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে সাময়িক বা স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিক্ষুব্ধ এক চালক আক্ষেপ করে বলেন:

“আমরা চেয়েছিলাম চোরদের বিচার হোক, কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে উল্টো বিচার। যারা টাকা চুরি করছে তারা বহাল তবিয়তে আছে, আর যারা সত্য কথা বলেছে তাদের পেটে লাথি মারা হচ্ছে।”

অভিযোগের তীর যাদের দিকে

সাধারণ শ্রমিকদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ—ইউনিয়নের শীর্ষ পর্যায়ের কিছু নেতা ও তাদের অনুসারীরা শ্রমিক কল্যাণের নামে তোলা বিপুল অংকের টাকা কোনো হিসেবে রাখছেন না। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই ঘটনায় হতবাক। তাদের মতে, প্রতিবাদী শ্রমিকদের কণ্ঠরোধ করার এই কৌশল কেবল অন্যায়কে আরও প্রশ্রয় দেবে।

বর্তমান পরিস্থিতি

বর্তমানে গোলাবাড়ি বন্দর এলাকায় এক ধরণের থমথমে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বহিষ্কৃত শ্রমিকদের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রুটি-রুজি বন্ধ হওয়ার ভয়ে অনেকেই এখন মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

শ্রমিক ইউনিয়নের স্থানীয় কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তারা একে “অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত” বলে এড়িয়ে যান। তবে সাধারণ শ্রমিক ও এলাকাবাসীর দাবি—অবিলম্বে এই অবৈধ বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে প্রকৃত চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রশাসন যেন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে।


মূল পয়েন্টগুলো একনজরে:

  • স্থান: গোলাবাড়ি বন্দর, গাবতলী, বগুড়া।

  • প্রধান অভিযোগ: শ্রমিক ইউনিয়নের অর্থ আত্মসাৎ ও চাঁদাবাজি।

  • ভুক্তভোগী: প্রতিবাদী সাধারণ পরিবহন চালক ও শ্রমিক।

  • ইউনিয়নের অবস্থান: প্রতিবাদীদের বহিষ্কার (শৃঙ্খলার অজুহাতে)।