বগুড়া প্রতিনিধি:
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় গরুবাহী ট্রাকে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও শেরপুর থানা পুলিশের যৌথ দল। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক, লুট হওয়া দুটি জীবিত গরু এবং পাঁচটি মৃত গরু উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভুক্তভোগী মো. জামাল উদ্দিন (৩৩) শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার রসুলগঞ্জ হাট থেকে ১২টি গরু কিনে একটি ট্রাকে করে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কের শেরপুর উপজেলার ছোনকা এলাকায় পৌঁছালে একটি ট্রাক তাদের গতিরোধ করে। পরে ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল ট্রাকের কাচ ভেঙে চালক, হেলপার ও ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে মারধর করে। একপর্যায়ে তারা প্রায় ১৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা মূল্যের ১২টি গরু, তিনটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ১৫ হাজার টাকা লুট করে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় শেরপুর থানায় পেনাল কোডের ৩৯৫/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার তদন্তে জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, পিপিএম-এর নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও শেরপুর থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার হাতিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুস সালাম সরকার (৩৫) ও বুলু মিয়া (২৮) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক এবং ট্রাকে থাকা পাঁচটি মৃত গরু উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত ১টা ৪৫ মিনিটে যমুনা সেতু পশ্চিম থানার গোলচত্বর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মহিদুল (৩৪) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার হেফাজত থেকে লুট হওয়া দুটি জীবিত গরু উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার মহিদুলের বিরুদ্ধে পূর্বে একটি চুরি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, এ ডাকাতির ঘটনায় জড়িত পলাতক অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং অবশিষ্ট লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।