বগুড়ায় এনজিও থেকে ঋণ নিতে গিয়ে পরিচয়ের সূত্র ধরে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত ১ নম্বর পলাতক আসামি মো. মাসুদকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১২।
র্যাব-১২ জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আলাদীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই নারীর (৩৪) স্বামী গত চার বছর ধরে প্রবাসে রয়েছেন। এনজিও থেকে ঋণ নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করতে গিয়ে তার সঙ্গে মাসুদের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে মাসুদ ওই নারীর কাছ থেকে জোরপূর্বক মোবাইল ফোন নিয়ে নিজের বাড়িতে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে মোবাইল ফোন ফেরত নিতে ওই নারী মাসুদের বাড়িতে গেলে সেখানে কেউ না থাকার সুযোগে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় মোবাইল ফোনে ওই ঘটনার ভিডিও ও ছবি ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, ঘটনার পর সামাজিক ও পারিবারিক সম্মানের কথা বিবেচনা করে ওই নারী বিষয়টি কাউকে জানাননি। পরে ধারণ করা নগ্ন ভিডিও ও ছবি দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বগুড়া সদর থানায় মামলা করেন। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(৩) ধারায় করা হয়েছে। মামলার এফআইআর নম্বর-৯৭, তারিখ ২২ আগস্ট ২০২৬ এবং জিআর নম্বর-৭৩৪, তারিখ ২২ আগস্ট ২০২৬।
র্যাব-১২-এর সিপিএসসি বগুড়া গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, মামলার এজাহারভুক্ত ১ নম্বর পলাতক আসামি মো. মাসুদ গ্রেপ্তার এড়াতে শিবগঞ্জ উপজেলার আলাদীপুর এলাকায় অবস্থান করছেন। এর ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মাসুদ আলাদীপুর গ্রামের মো. সায়েদ আলীর ছেলে।
পরে গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাকে বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব-১২।
উল্লেখ্য, অভিযোগের বিষয়টি আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে আইনগতভাবে দোষী বলা যাবে না।