বগুড়া 

বগুড়ায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাংবাদিক পরিচয়ে অভিনব কায়দায় অটোরিকশা ও ইজিবাইক ছিনতাইকারী একটি আন্তঃজেলা চক্রের মূলহোতাসহ ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এসময় তাদের কাছ থেকে ৪টি ছিনতাইকৃত অটোরিকশা, ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত ১টি প্রাইভেটকার, ২টি ওয়াকিটকি এবং ৬টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত

গত ২৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বগুড়া টিএমএসএস হাসপাতাল এলাকায় এক ইজিবাইক চালককে টার্গেট করে চক্রটি। চালককে কৌশলে গাড়িতে রেখে অন্য এক ব্যক্তির কাছে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। চালক যেতে না চাইলে জনৈক ব্যক্তি নিজেকে বগুড়া সদর থানার সিভিল পুলিশ পরিচয় দিয়ে ধমক দেয় এবং হাতে থাকা ওয়্যারলেস সেট (ওয়াকিটকি) প্রদর্শন করে। চালকের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তাকে দূরে পাঠিয়ে দিয়ে চক্রটি ইজিবাইক নিয়ে চম্পট দেয়। এই ঘটনায় গত ৫ মে বগুড়া সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

ডিবির ঝটিকা অভিযান

মামলা দায়েরের পর বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, পিপিএম-এর নির্দেশনায় ডিবি পুলিশ ছায়া তদন্ত শুরু করে। ডিবি’র অফিসার ইনচার্জের তত্ত্বাবধানে এসআই মোহাম্মদ ফজলুল হকের নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৫ মে ভোর ৫:৩০ মিনিটে শহরের চারমাথা এলাকার ‘খাজা হোটেল (আবাসিক)’-এ অভিযান চালায়।

সেখান থেকে চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন: ১. মোঃ মামুন শিকদার (মুন্সীগঞ্জ) – চক্রের মূলহোতা ২. মোঃ মিঠু পাটোয়ারী (বরিশাল) ৩. মোঃ সুমন মিয়া (গাইবান্ধা) ৪. মোঃ জাকির হোসেন (পটুয়াখালী) ৫. মোঃ নিজাম (পটুয়াখালী)

রংপুরে অভিযান ও মালামাল উদ্ধার

গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ছিনতাইকৃত ইজিবাইকগুলো রংপুর মেট্রোপলিটনের হারাগাছ এলাকায় বিক্রি করা হয়েছে। ডিবির টিম তাৎক্ষণিক রংপুরের বানুপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে চোরাই ইজিবাইক ক্রয়কারী ব্যবসায়ী মোঃ ওবায়দুল ইসলাম বেগমোঃ জাহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। এসময় জাহিদুল ইসলামের দোকান থেকে বাদীর ইজিবাইকসহ মোট ৪টি ছিনতাইকৃত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়।

জব্দকৃত সরঞ্জামাদি

অভিযানকালে আসামিদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে:

  • ২টি ওয়াকিটকি সেট (চার্জার ও অতিরিক্ত ব্যাটারিসহ)।

  • ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত ১টি প্রাইভেটকার

  • ৬টি অটো গাড়ির চাবি ও ১টি মার্তুল।

  • ৬টি বিভিন্ন মডেলের মোবাইল ফোন।

অপরাধী প্রোফাইল ও আইনি পদক্ষেপ

পুলিশি রেকর্ডে দেখা গেছে, গ্রেফতারকৃত মামুন শিকদার, মিঠু পাটোয়ারী, জাকির হোসেন এবং নিজামের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরি ও দস্যুতার মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

ডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সাধারণ চালকদের বিভ্রান্ত করে আসছিল। এই সফল অভিযানের ফলে বগুড়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় অটোরিকশা চালকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।