প্রচারনায়: OC Gabtoli, Bogura
সম্প্রতি দেশে আত্মহত্যার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আত্মহত্যা একটি জটিল জনস্বাস্থ্য সমস্যা, যার পেছনে মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক ও নিউরোবায়োলজিক্যাল বিভিন্ন কারণ কাজ করে। আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা প্রদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গভীর বিষণ্ণতা (Depression), দীর্ঘস্থায়ী হতাশা, মানসিক ট্রমা, উদ্বেগ, মাদকাসক্তি এবং বিভিন্ন মানসিক রোগ আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়ায়। অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তি এমন অবস্থায় পৌঁছে যায় যেখানে জীবনের সমস্যাগুলোর কোনো সমাধান তার কাছে দৃশ্যমান থাকে না। তীব্র আশাহীনতা, আত্মদোষারোপ, অপরাধবোধ এবং আত্মসম্মানবোধের অবক্ষয় আত্মহত্যার চিন্তাকে ত্বরান্বিত করতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে যে আত্মহত্যাপ্রবণ আচরণের সঙ্গে মস্তিষ্কের সেরোটোনিন (Serotonin) নামক নিউরোট্রান্সমিটারের ভারসাম্যহীনতার সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স (Prefrontal Cortex)-এর কার্যকারিতা সাময়িকভাবে হ্রাস পেলে আবেগপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ বৃদ্ধি পেতে পারে।
নিম্নলিখিত আচরণ ও লক্ষণগুলো আত্মহত্যার ঝুঁকির ইঙ্গিত হতে পারে—
১. আত্মহত্যার চেষ্টা করলে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
২. ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিকে একা না রাখা এবং পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন করা প্রয়োজন।
৩. শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।
৪. আক্রান্ত ব্যক্তিকে সহানুভূতি, ভালোবাসা ও মানসিক সমর্থন দিতে হবে। তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে এবং কটাক্ষ বা দোষারোপ করা যাবে না।
৫. বিষপান, ওষুধ সেবন বা অন্য কোনো আত্মহত্যার প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে বিলম্ব না করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
৬. পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত খোঁজখবর, যত্ন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
আত্মহত্যা প্রতিরোধযোগ্য। সময়মতো সতর্কসংকেত শনাক্ত করা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ, পারিবারিক ও সামাজিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং সচেতনতা গড়ে তোলার মাধ্যমে অনেক মূল্যবান জীবন রক্ষা করা সম্ভব। আত্মহত্যাপ্রবণ কোনো ব্যক্তিকে অবহেলা না করে সহমর্মিতা, যত্ন ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করাই আমাদের সবার দায়িত্ব।