বগুড়া, প্রতিনিধি:স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে ঘিরে সম্প্রতি একটি ইউনিয়নের নামকরণ ইস্যুতে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম একটি প্রশাসনিক ইউনিটের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এক পক্ষের দাবি, কোনো জনপ্রতিনিধির পরিবারের সদস্যদের নামে জনপদ বা প্রশাসনিক ইউনিটের নামকরণ ব্যক্তিপূজার সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করতে পারে এবং এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জনমতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রীর সমর্থকরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক নেতা, সমাজসেবক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনার নামকরণের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। তাঁদের মতে, নামকরণের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত বিতর্ক সৃষ্টি না করে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধির উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করা উচিত।
সমর্থকদের দাবি, বগুড়ার বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে পরিচালিত সমালোচনার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলেও তারা মনে করেন।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গণতান্ত্রিক সমাজে জনপ্রতিনিধিদের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা ও সমালোচনা করা স্বাভাবিক। তবে সেই সমালোচনা তথ্যভিত্তিক ও গঠনমূলক হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে নামকরণের মতো বিষয়গুলোতেও স্বচ্ছতা এবং জনমতের প্রতিফলন থাকা জরুরি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশের মতে, ইউনিয়নের নাম কী হবে তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো এলাকার রাস্তাঘাট, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সুবিধার উন্নয়ন। তাদের ভাষ্য, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে নামকরণ ইস্যু সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে তেমন প্রভাব ফেলে না।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে নামকরণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত, এর প্রক্রিয়া এবং জনমতের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা নামকরণ ইস্যুর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধির উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, জবাবদিহিতা ও জনস্বার্থে ভূমিকা নিয়েও সমান গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন হওয়া উচিত।