• শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৭:০৬ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ঘিরে বগুড়ায় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা মহাস্থানগড় ভ্রমণ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বাসের চাপায় নিহত ১ শাজাহানপুরে কিশোরীকে ধর্ষণ মামলার পলাতক আসামি আরিফ র‌্যাবের খাঁচায় বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৪ সদস্য গ্রেফতার বগুড়ার গাবতলীতে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে প্রবেশের অভিযোগে যুবক আটক, ঘটনাস্থলে পুলিশ আদমদীঘিতে মরিচ ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে কিশোরের মৃত্যু, আহত মা বগুড়ার কাহালুতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুইজনের মৃত্যু গাবতলীতে ১৫ গ্রাম গাঁজাসহ দুইজন গ্রেফতার, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড তীব্র তাপদাহে রিকশাচালকদের মাঝে ছাতা বিতরণ

আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতা ও করণীয় জানান গাবতলী মডেল থানা ওসি রাকিব হাসান 

Reporter Name / ৪০ Time View
Update : বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬

প্রচারনায়: OC Gabtoli, Bogura

ভূমিকা

সম্প্রতি দেশে আত্মহত্যার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আত্মহত্যা একটি জটিল জনস্বাস্থ্য সমস্যা, যার পেছনে মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক ও নিউরোবায়োলজিক্যাল বিভিন্ন কারণ কাজ করে। আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা প্রদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আত্মহত্যার প্রধান কারণ

১. মনস্তাত্ত্বিক কারণ

গভীর বিষণ্ণতা (Depression), দীর্ঘস্থায়ী হতাশা, মানসিক ট্রমা, উদ্বেগ, মাদকাসক্তি এবং বিভিন্ন মানসিক রোগ আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়ায়। অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তি এমন অবস্থায় পৌঁছে যায় যেখানে জীবনের সমস্যাগুলোর কোনো সমাধান তার কাছে দৃশ্যমান থাকে না। তীব্র আশাহীনতা, আত্মদোষারোপ, অপরাধবোধ এবং আত্মসম্মানবোধের অবক্ষয় আত্মহত্যার চিন্তাকে ত্বরান্বিত করতে পারে।

২. নিউরোবায়োলজিক্যাল কারণ

গবেষণায় দেখা গেছে যে আত্মহত্যাপ্রবণ আচরণের সঙ্গে মস্তিষ্কের সেরোটোনিন (Serotonin) নামক নিউরোট্রান্সমিটারের ভারসাম্যহীনতার সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স (Prefrontal Cortex)-এর কার্যকারিতা সাময়িকভাবে হ্রাস পেলে আবেগপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ বৃদ্ধি পেতে পারে।

আত্মহত্যার সতর্কসংকেত

নিম্নলিখিত আচরণ ও লক্ষণগুলো আত্মহত্যার ঝুঁকির ইঙ্গিত হতে পারে—

  • মৃত্যুর কথা বারবার বলা বা ইঙ্গিত দেওয়া।
  • বিদায় বা ক্ষমা চাওয়ার প্রবণতা।
  • আত্মহত্যার পরিকল্পনা বা প্রস্তুতির কথা বলা।
  • আত্মহত্যার উপকরণ সংগ্রহ করা।
  • আচরণ, ঘুম ও খাদ্যাভ্যাসে হঠাৎ পরিবর্তন।
  • নিজের পরিচর্যার প্রতি উদাসীনতা।
  • আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া ও নিজেকে ঘৃণা করা।
  • পরিবার ও বন্ধুদের থেকে দূরে সরে যাওয়া।
  • নিজেকে অন্যের জন্য বোঝা মনে করা।
  • অতিরিক্ত ধূমপান, মদ্যপান বা মাদক গ্রহণ।
  • নিজের মূল্যবান জিনিসপত্র অন্যকে দিয়ে দেওয়া।
  • পূর্বে আত্মহত্যার চেষ্টা বা আত্মক্ষতির ইতিহাস থাকা।
  • গুরুতর শারীরিক বা মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়া।

আত্মহত্যা প্রতিরোধে সহায়ক বিষয়

  • সুস্থ পারিবারিক ও বৈবাহিক সম্পর্ক।
  • দৃঢ় সামাজিক বন্ধন।
  • আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সমস্যা মোকাবিলার দক্ষতা।
  • ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ।
  • কর্মজীবন বা অর্থবহ কাজে সম্পৃক্ততা।
  • ইতিবাচক চিন্তাভাবনা।
  • ঘরে বিষাক্ত কীটনাশক, গ্যাস ট্যাবলেট বা আত্মহত্যার ঝুঁকিপূর্ণ উপকরণ না রাখা।

করণীয়

১. আত্মহত্যার চেষ্টা করলে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।

২. ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিকে একা না রাখা এবং পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন করা প্রয়োজন।

৩. শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

৪. আক্রান্ত ব্যক্তিকে সহানুভূতি, ভালোবাসা ও মানসিক সমর্থন দিতে হবে। তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে এবং কটাক্ষ বা দোষারোপ করা যাবে না।

৫. বিষপান, ওষুধ সেবন বা অন্য কোনো আত্মহত্যার প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে বিলম্ব না করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

৬. পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত খোঁজখবর, যত্ন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

উপসংহার

আত্মহত্যা প্রতিরোধযোগ্য। সময়মতো সতর্কসংকেত শনাক্ত করা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ, পারিবারিক ও সামাজিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং সচেতনতা গড়ে তোলার মাধ্যমে অনেক মূল্যবান জীবন রক্ষা করা সম্ভব। আত্মহত্যাপ্রবণ কোনো ব্যক্তিকে অবহেলা না করে সহমর্মিতা, যত্ন ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করাই আমাদের সবার দায়িত্ব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd