বগুড়া
বগুড়ার পল্লীমঙ্গল এলাকায় ফোকাস সোসাইটি এনজিওর ফিল্ড অফিসার মোখলেছার রহমান (৩৭) নিখোঁজের ঘটনায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। ঘটনার এক সপ্তাহ পার হলেও এখনও উদ্ধার হননি তিনি। তবে এই ঘটনায় মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আদালত তাদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
গত ২৮ এপ্রিল সকাল ৮টার দিকে অফিসের ঋণের টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে বের হন মোখলেছার রহমান। দুপুর ২টার পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। ওইদিন রাত ১০টার দিকে পল্লীমঙ্গল বাজার মসজিদের সামনে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এরপর থেকেই পরিবারের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, নিখোঁজের পরদিন অর্থাৎ ২৯ এপ্রিল রাত আড়াইটার দিকে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে মোখলেছারের বড় ভাই আতাউর রহমানকে ফোন করা হয়। অপহরণকারীরা মোখলেছারকে তাদের হেফাজতে রাখার দাবি করে এবং এক লাখ টাকা মুক্তিপণ চায়। ছোট ভাইয়ের প্রাণ বাঁচাতে পরিবার ওই রাতেই বিভিন্ন বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে মোট ৮৭ হাজার ৯৯০ টাকা পাঠায়। কিন্তু টাকা পাওয়ার পরও তাকে মুক্তি না দিয়ে আরও অর্থ দাবি করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
বগুড়া সদর থানার এসআই আব্দুল খালেকের নেতৃত্বে এক বিশেষ অভিযানে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো:
ফয়সাল আহমেদ (৩১): নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার চৈতন্যকান্দা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।
আলামিন (৩৩): ঢাকার ডেমরা এলাকার নূরনবীর ছেলে।
দুই আসামি গ্রেফতার হলেও এখন পর্যন্ত নিখোঁজ মোখলেছার রহমানের কোনো অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার গতিপ্রকৃতি দেখে জনমনে কিছু প্রশ্ন দেখা দিয়েছে:
এটি কি সত্যিই পরিকল্পিত অপহরণ?
নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য বা আত্মগোপনের বিষয় রয়েছে?
বগুড়া সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে মোখলেছার রহমানকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, মোখলেছারের পরিবার দ্রুত তাকে জীবিত উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছে। রিমান্ডে থাকা আসামিদের জবানবন্দিতেই এই রহস্যের জট খুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।